Showing posts with label নীল ডায়েরী. Show all posts
Showing posts with label নীল ডায়েরী. Show all posts

Monday, 31 January 2011

মানুষের বিপরীতে মানুষের সরকার...

ক্ষমতায় গেলেই কি মগজটাকে ডিপ ফ্রিজে জমা রেখে যেতে হয়? তা না হলে খুব সাধারন অশিক্ষিত মানুষ ও যে সরল সত্যটা বোঝে ক্ষমতাবানরা কেন তা বোঝেন না? নাকি ক্ষমতাবানদের মগজ মোহের হলুদ আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। সরকার যে আড়িয়াল বিলে পতনের রাস্তা তৈরী করছে তা একজন নাদান ও বোঝে,খালি সরকার বোঝেনা।
এ দেশে এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কানসাট,ফুলবাড়ী,রূপগঞ্জের পর এবার আড়িয়াল বিল। সেই একই নিয়মে সরকার নিজেকে দাঁড় করিয়েছে জনগনের মুখোমুখি। এবার দশ লক্ষ্ মানুষের বিপরীতে সেই মানুষের সরকার।সরকারের কি দরকার? নাম, বিমানবন্দর, মানুষ, নাকি মানুষের রক্ত?
আড়িয়াল বিল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে লেখালেখি হচ্ছে। নানান তথ্যউপাত্তসহ চমতকার সব লেখা লিখেছেন আমদের ব্লগাররা। পত্রিকার কলাম লিখিয়েরাও চুপ করে নেই। শুধু সরকার ঘুমিয়েছিলো কড়া ডোজের আফিম খেয়ে।এ আমাদের দূর্ভাগ্য ও বটে। নাহলে কেন প্রতিবারই আমাদের এরকম দেখতে হবে? আমাদের সরকার আমাদেরই বুকে কেন চালাবে তার ক্ষমতার তপ্ত সিসা !
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মান করার, যার নাম হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। কিন্তু এটা কি আদৌ জনগনের দাবি ছিল? আরো একটি বিমান বন্দরের কি খুব প্রয়োজন ছিলো?
ক্ষমতায় আসার পর ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রথমে এ বিমান বন্দরের জন্য প্রাথমিকভাবে স্থান নির্ধারন করা হয়। সেখানেও প্রতিবাদের মুখে পড়েছিল সরকার। পরে সেখান থেকে সরে এসে ঢাকার কাছে মুন্সিগঞ্জের আড়িযাল বিলে বিমান বন্দর নির্মান করার জন্য স্থান নির্ধারন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এ বিমান বন্দরের জন্য আড়িয়াল বিলে পচিঁশ হাজার একর জমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু করবে সরকার ।
এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে এলাকার মানুষ । তাদের দাবী আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর হলে তাদের ফসলী জমি নষ্ট হবে ।ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলার অধিবাসীরা ওই বিলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার লোক বেকার হয়ে পড়বে। দেশে খাদ্যশস্যের ঘাটতি দেখা দিবে।
তবে সরকার বলছে আড়িয়াল বিল এক ফসলী জমি ।
যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে। এখানেই মজাটা দেখেন-ফুলবাড়ীর মানুষ গুলোকেও এরকম গল্প শুনিয়েছিল আমাদের সেইসময়ের সরকার বাহাদুর আর তাদের বশংবদেরা। তখন তাদের বলা হয়েছিল উন্মুক্ত কয়লা খনি করতে গিয়ে যারা ভূমি হারাবেন তাদের জন্য নির্মাণ করা হবে আধুনিক ফ্লাট বাড়ি।কিন্তু মানুষগুলো যেন কবিতার সেই বাবুই পাখির মত। “নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা”।সেদিন দা-খুন্তি নিয়ে বেরিয়েছিল নিজেদের ঠিকানা রক্ষার স্বার্থে। এবারও তাই ঘটলো।
আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মানের সরকারী পরিকল্পনার প্রতিবাদে সোমবার সকালে শতশত মানুষ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। আড়িয়াল বিলে নতুন বিমান বন্দর নির্মানের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পুলিশ নিহত এবং ১২জন গুরুতর আহত হয়েছে । এই মৃত্যুর দায় কার? এই পুলিশগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের সরকারেরা।যারা মারা যায় তাদের পরিবারের সদস্যরা কাদের অভিশাপ দেয়? বিক্ষুব্ধ মানুষদের নাকি সরকার কে?তাদের অভিশাপের আগুনে কে পোড়ে? মানুষ নাকি সরকার?ইতিহাস কি বলে?
ইতিহাসের এ বড় নির্মম শিক্ষা-ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আমরা কেবল পুনরাবৃত্তি দেখি। একি ঘটনা। কেবল পাত্র পাত্রী চেঞ্জ। সেবারে মাহমুদুর রহমান এবারে শফিক আলম মেহেদি(বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব) কিংবা আবদুল মান্নান(গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী)।আসুন তাদের বানী গুলো শুনি।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব শফিক আলম মেহেদি কয়েকদিন আগে বিবিসিকে বলেন -বিমান বন্দরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মধ্যে সাধারন মানুষের সম্পৃক্ততা নেই ।
মি: মেহেদি আরো বলেন , “আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর না করে অন্য যে কোন জায়গায় বিমান বন্দর করলে এর চেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতো।বিমান বন্দর হলে স্থানীয় মানুষের কর্মস্থান হবে৻ ”
মন্ত্রী মহোদয় তো বিমান বন্দরের জন্য জান দিয়ে দেবেন । বিক্ষোভকারীরা তার ভাষায় "ওরা বিএনপি জামাত চক্র! যদ্ধাপরাধীদের বিচার বাঞ্চাল করতে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সাধারণ মানুষে্র সাথে এর সম্পৃক্ততা নাই।" কি নির্লজ্জ আর হাস্যকর এই সব মানুষ আমাদের মন্ত্রী! এইসব অন্ধ মানুষদের নিয়ে আমাদের সরকার! সরকার বদল হবে,পাত্রপাত্রী বদল হবে শুধু সংলাপ গুলো একই রকম রয়ে যাবে।
নামকরন আওয়ামীলীগের একটি ম্যনিয়া। রোগটি পুরোন। ধারনা করি দুরারোগ্যও। মাঝখান থেকে বঙ্গবন্ধু মারা যান বহুবার। ডালিম,ফারুক,রশীদ’রা যেরকম নির্মম ভাবে মেরেছিলেন তার চেয়ে বহুগুণ নিষ্ঠূরতায় মা্রা পড়েন ‘পড়নে মুজিবকোট’দের হাতে। অসহায় বঙ্গবন্ধু। মগজহীণ লোভী মানুষগুলো তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আড়িয়াল বিলের মানুষদের সামনে। এই ‘মুজিবকোট’দের কাছে বঙ্গবন্ধু আসলে কিছুনা। (কিছু যে না তা আমরা দেখেছি আগস্ট’৭৫ এর পরবর্তী সময়টিতে তাদের অদ্ভূত নিরবতায়)।আসল কথা হল একটি নতুন বিমানবন্দর সমান কয়েক শ কোটি টাকা।পুরনো গুলো সংস্কারে তাই তাদের আগ্রহ দেখিনা।এখানে একটি পাটিগনিতের ঐকিক নিয়মের অংক আছে।আমরা সাধারণ মানুষ এই অংকে কাঁচা। তাই আমরা আম পাব্লিক। ওনারা মিনিস্টার।সরকারের লোক।

সরকার আসলে কি? সরকার কি কোন নির্জীব সত্তা? শুধুই কি একটা কনসেপ্ট? নাকি এর প্রাণ আছে? মানুষের মত এর বিবেক আছে কি? বিলের কান্না শোনার মত মন কি তার আছে? বিলের বুকে যে ডাহুকের গান নিঃসংগ সন্ধ্যার বুকে বিরহের মত বাজে-তার গান শোনার মত কান কি তার আছে? কিংবা হলুদ ফসলের গায়ে যে বাতাস শিস কেটে যায় সেই শিসটূকু শোনার মত কান কি আছে তার? সরকার কি শুনতে পাবে নিহত হওয়া পুলিশ সদস্যটির স্বজনদের কান্না। মনে প্রশ্ন জাগে। উত্তর মেলেনা ।দুঃখ লাগে-আমাদের সরকার গুলো এমন অসাড় হয় কেন? এমন বধির কেন হয়?
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ২:২৩
তথ্য ঋণঃ বিবিসি,প্রথম আলো।

Tuesday, 2 November 2010

অ্যাডামের সেতু

মাঝে মাঝে মনে হয় এইতো জীবন, কি সুন্দর বেঁচে থাকা !
বিষয়ের অন্তর্চক্ষু দিয়ে দেখি অর্থ, কীর্তি, যশ।
মন্দ নয় নেহায়েত; এই প্রাপ্তি ।
তবু কেন এক ‘বিপন্ন বিস্ময়
অন্তর্গত রক্তের ভেতর খেলা করে’?
এযেন লাশ কাটা ঘরের সেই মানুষটি
‘মরিবার হলো তার সাধ’।
তবে কি এ জীবন নয়
অন্যকোন জীবন চেয়েছিলাম?
জীবনের অর্থ খুঁজে খুঁজে বেঁচে থাকি
এক একটা দিন-মাস-বছর।
এ ভাবেই একদিন...
দেখা হয়ে যাবে তার সাথে।
বলবে কি “তুহুঁ মম শ্যাম সমান”?
মম শ্যামের সেই সুবর্ণদ্বীপের পথে এ যেন সমূদ্র বন্ধন,
অ্যাডামের সেতু।

Thursday, 28 October 2010

মমতাময়ী

এটা আমার লেখা প্রথম ব্লগ। কি নিয়ে লিখবো ? বিষয়বস্তু কি হবে ? জীবনের প্রথম ব্লগ। এই লেখার ভেতর দিয়েই আমি শুরু করতে যাচ্ছি আমার জীবনের ব্লগ পর্ব। মানবজীবন নানা রকম পর্বে সাজানো। সেই জীবনের একেক পর্ব একেক রকম ঘোরের ভেতর দিয়ে কেটে যায়। এই যেমন আমার এখন চলছে ‘পূত্রঘোর’।
আমার দেবশিশুর মতো সাড়ে তিন বছরের পুত্রধনটি এই মূহুর্তে আমার জীবনের সমস্ত আনন্দ-বেদনার কেন্দ্রবিন্দু। তাকে ছেড়ে থাকাটা এই মূহুর্তে আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের কাজ। অবশ্য এই কাজটি আমাকে প্রতি সপ্তাহেই দুই একদিনের জন্য করতে হয়। এ সপ্তাহে আমি আমার অতীত রেকর্ড ভেঙ্গেছি। দারা-পুত্র-পরিবার ছেড়ে আমি সুদীর্ঘ চার দিন চার রাত ঢাকার বাইরে থেকেছি। এটাই এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ।

আখাউড়ায় থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রী আমাকে ফোনে জানিয়েছিল “তোমার ছেলে স্কুলে যেতে চায়না ,স্কুলের কথা শুনলেই ক্ষেপে যাচ্ছে।” অল্প কিছুদিন হলো আমার ছেলেটি স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। এই ঢাকা শহরে এটাই এখন রেওয়াজ। আড়া‌ই-তিন বছর বয়স থেকেই স্কুলে যাওয়া শুরু। সেই তুলনায আমার ছেলে বরং বছর-ছ’মাস পিছিয়ে ।কি দিন ছিল আমাদের ! ৫/৬ বছরের আগে স্কুলে যাওয়ার নাম নেই। আর এখন! তবে এই সব শহুরে স্কুলগুলোর একটা দিক ভাল। আমাদের ছোটবেলার স্কুল গুলোর মত বেত নিয়ে পড়ায় না। শুরুর দিকটায় শুধু খেলাধূলা,রাইম, মি্উজিক। ফাকে ফাকে চলে অক্ষর জ্ঞান। মন্দ না। ক্লাশ ওয়ানের আগ পর্যন্ত; একে এরা বলে প্রি-স্কূল। প্রি-স্কুল জিনিসটা আমাদের মত কর্মজীবি বাবা মায়ের জন্য ভালোই। ছেলেটা বাসায় একা একা বোর হয়। এখানে এসে তবু কিছুটা সময় কাটে। যদিও বাসায় ও দাদা-দাদীর সাথে থাকে তবুও সমবয়সীদের সাথে কিছু সময় কাটানোর মজা অন্য রকম। ছেলেটার অন্তত একটা সার্কল তৈরী হোক। কিছু বন্ধু ওরও হোক। এই সব শহুরে স্কুল নিয়ে আমার অনেক শুচিবাই আছে। আমার কাছে এগুলোর অধিকাংশই একেকটা ব্যবসাকেন্দ্র । ‘ক্লায়েন্টদের’ আকৃষ্ট করবার জন্য এরা অনেক কিছুই করে। কোন কোন স্কুলের প্রিন্সিপাল (আমাদের সময় এই পদটিকে বলা হতো হেডমাস্টার। শব্দটির সাথে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি জড়িত।) গার্জেনদের আকৃষ্ট করবার জন্য বলেন “আমার স্কুলে আমি কখনোই বাংলা বলতে দেই না । আই নেভার এ্যলাউ… ।” তার স্কুল কতটা ভাল স্কুল সেটা বোঝানোর জন্যই হয়তো বা এই উক্তি। এই সব স্কুলের প্রতি আমার আসলে ভক্তি আসেনা। তবু ছেলেকে তো স্কুলে দিতে হবে। অনেক খুঁজে পেতে, এ জনে ও জনে ধরে একটা স্কুলের সন্ধান পাই। বাংলা ইংলিশ সমান জোর দিয়ে পড়ান হয় । স্কুলের কর্ণধারের পরিচয় জেনে আমি আশ্বস্ত হই। তিনি বাংলাদেশের খুবই মননশীল একটি পরিবারের সদস্য ।এদের একভাই শহীদ বুদ্ধিজীবি । ভাষা আন্দোলনে ছিলেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়;শিক্ষক ছিলেন। এঁদের বড় ভাই টি একজন জাতীয় অধ্যাপক, এক নামে সবাই চেনেন। একবোন এদেশের নাট্যজগতের অত্যন্ত ‍সুপরিচিত একজন অভিনেত্রী । বাকীরা ও সুপ্রতিষ্ঠিত। এ রকম পরিবারের একজন হবেন আমার ছেলের প্রথম স্কুলের প্রিন্সিপাল - এতো সৌভাগ্য! ভদ্রমহিলার সাথে পরিচিত হয়ে আমি ধন্য। প্রথম দিন, গার্জেনদের ইমপ্রেস করবার জন্য ম্যাডামের কতরকমের চেষ্টা! ঠিকই আছে, স্কুলটা চালাতে হবে তো।

প্রথম দিনটিতে আমার ছেলে; নভঃ কে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম আমি, আমার স্ত্রী আর সাথে আমাদের মমতা খালা- যিনি আসলে নভঃ’র সাবর্ক্ষণিক সঙ্গী । মমতা খালা আমাদের সাথে আছেন আজ প্রায় তিন বছর। এসেছিলেন আমাদের গৃহকর্মের সহকারীনি হিসেবেই। তবে এই মানুষটি তার সততা, আন্তরিকতা আর ব্যক্তিত্ব গুণে হয়ে উঠেছেন আমাদের একজন। ভর্তি সংক্রান্ত নিয়ম কানুন সেরে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম কে বললাম “ইনি হলেন আমাদের মমতা খালা । ইনিই নভঃ কে দেখেন । আমরা তো দুজনেই কর্মজীবি… নভঃ’র সাথে খালাই আসবেন,খালাই নিয়ে যাবেন । ওনার নাম মমতা ।” ম্যাডাম আমার কথার ইঙ্গিতটি ধরতে পারলেন না ( হয়তো চাইলেন না) খালাকে ‘বুয়া’, ‘তুমি’ সম্বোধন করলেন। বিষয়টা আমার কাছে অস্বস্তিকর । ‘বুয়া’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ যা-ই হোক ,শব্দটি তার ‌মাধূর্য হারিয়েছে অপব্যবহারের দোষে। এরকম এক শব্দে কাউকে বিশেষ শ্রেনীভূক্ত করে ফেলার প্রবণতা আমাদের শিক্ষিত(?) সমাজে প্রকট । ম্যাডাম কে বললাম ,‘খালা আমাদের পরিবারের সদস্যর মতো । আমাদের খুবই আপন মানূষ (কৌশলে বিষয়টা ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা )। “এরকম বুয়া পাওয়া আসলেই কঠিন ” -ম্যাডামের উক্তি। মনটা কি দমে গেল? পাত্তা দিলাম না । সব কিছু মন মত হয় না। নভঃ স্কুলে যাওয়া শুরু করলো । সব বাচ্চার সাথে যায় তাদের মা, নিদেন পক্ষে দাদী-নানী। সেই সব বনেদী ঘরের অভিজাত রমণীদের পাশে আমাদের আটপৌরে খালা- নেহায়েত বেমানান। আমাদের প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বিরক্ত হতে লাগলেন, খালার সাথে তার ব্যবহার দেখলেই ব্যপারটা আঁচ করা যায় । খালার ক্ষেত্রে তিনি তার আগের সম্বোধনটিই বহাল রাখলেন। এবং শুধু খালার সাথে কথা বলার ক্ষেত্রেই তার গলার স্বরটি একটু যেন বেশী চড়া।

সেইদিন কি কারণে জানি না গলাটা বোধ হয় একটু বেশী-ই চড়িয়েছিলেন। নভঃ সেদিন স্কুলের বাকী সময়টা খালার কোলেই কাটিয়েছে। কোন খেলা না, পড়া তো নয়ই। ম্যাডামের সব নির্দেশ অমান্য, সব আদর প্রত্যাখ্যান, ভোলানোর সব আয়োজনই ব্যর্থ। এ যেন তার প্রতিবাদ। বাসায় এসেই কান্না। “আমার দিদি ভাইকে ম্যাডাম বকা দিল কেন? আমার দিদি ভাইকে বকা দিলে আমার খুব কষ্ট লাগে। আমি আর কোনদিন স্কুলে যাব না।” আমি নভঃকে কি উত্তর দেব? সাত পাঁচ বোঝাতে পারতাম। সে চেষ্টাতে যাইনি। আমি বরং চুপ করে থাকলাম । বাক্যরহিত। এই শিশুটি যে আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিল- আমাদের দেশের সবচে প্রগতিশীল পরিবারের সদস্য এই শিক্ষিকাটি কি তা ধরতে পেরেছেন ?(পুনশ্চঃ আমার এই ব্লগটি আমাদের মমতা খালাকে উৎসর্গ করলাম। এই মানুষটি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছেন। আমাদের জীবনে একরকম নিশ্চিন্তি এনে দিয়েছেন। খালা আছেন বলেই না আমার স্ত্রী সকাল বিকাল নিশ্চিন্তে রোগী দেখতে পারেন, আমি ঢাকা-আখাউড়া করতে পারি। দিন শেষে ঘরে বসে দু’লাইন ব্লগ ও লিখতে পারি। শুধু আফসোস খালা এই লেখাটি পড়তে পারবেন না...।