Monday, 16 May 2011

খবরদার হাত দেবেন না। হাত সরান বলছি। হাত উপরে...........

খবরদার হাত দেবেন না। হাত সরান বলছি।হাত উপরে , উপরে। ভাল করে দেখতে দেন , নাইলে চিকিৎসা নাই। প্রায় পঞ্চাশ জন লোকের সামনে ভরা ওয়ার্ডে চলছে পঞ্চশোর্ধ এক হার্নিয়ার রোগী দেখা। ডাক্তার একজন সহকারী অধ্যাপক , সার্জারী বিভাগ । অসহায় রোগীর সম্ভম লুটিয়ে পড়ে মলিন লুঙ্গির সাথে ওয়ার্ডের ততেধিক অসহায় মেঝেতে।

“কাহিনী কি?

-স্ক্রীন পাওয়া যাইতেছে না।“

এটা একটা কাল্পনিক নাটকের চিত্রনাট্য , আসুন এটা আমরা ভুলে যাই।

**********************************************************************************************

আমাদের দেশের মেডিকেলের কারিকুলামটাই একটা বিরাট সমস্যা। আমি চরম হতাশ। এখানে মানবিক চিকিৎসক হয়ে ওঠার রসদ খুবই কম। তাই অনেকের কাছে চিকিৎসা বিজ্ঞান হয়ে ওঠে কেবলিই একটি বৃত্তিমূলক শিক্ষা। সিস্টেমের সমস্যা ও আছে। একধরনের নির্মম মানসিক অত্যাচারের ভেতর দিয়ে একজন চিকিৎসক তৈরী হন। অজান্তেই হয়তো তাদের ভেতরে তৈরী হয় একধরনের স্যডিস্ট মানসিকতা। যার ফলেই হয়তো তারা এই পিতার বয়েসী রোগীকে ধমকে কথা বলেন, হার্নিয়া পরীক্ষার সময় পন্চাশোর্ধ রোগীর লুঙ্গি ধরে টান দেওয়ার প্রেরণা পান।

আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও এখানে কিছু ভূমিকা রাখে বলে অনুমান করি । মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর থেকে ই একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট যেরকম প্রিভিলেজ পেতে শুরু করে তার পরিবার ও আশেপাশের মানুষের কাছে তাতে তার মানসিক বিকাশে ও বাধার সৃষ্টি করে। এক ধরনের সুপার কমপ্লেক্সে ভূগতে থাকে এই সব হবু ডাক্তার রা। ডাক্তার হওয়ার পর আরো। ডাক্তার পরিচয়টি তার সামাজিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করে। তাই হয়তো বিয়ের কার্ডেও নামের আগে ডাঃ লেখে অনেকে, লক্ষ্য করেছি। হার্নিয়ার রোগী একজামিনের আগে পারমিশন নেওয়া, স্ক্রিন চাওয়ার সহবত টা কেবলি পরীক্ষা পাশের একটা বৈতরনী। বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর দরকার কি?

অধিকাংশ ডাক্তার আসে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। শ্রেনী পরিবর্তনের স্বপ্ন আর বাবা মায়ের ব্যর্থতা পুষিয়ে নেওয়ার দায় কারো কারো ডাক্তার হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। তাই বরং রোগীকে দেওয়া ধমকটা তার শ্রেনীগত অবস্থানকে নিশ্চিত করে।

এদেশে ডাক্তার মানেই যেন ক্লিনিশিয়ান। মানে মেডিসিন, সার্জারী এইসব। জনস্বাস্থ্য, প্রিভেনটিভ মেডিসিন, মেডিকেল এডুকেশন বিশেষজ্ঞরা এদেশের চিকিৎসক সমাজের দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক। এরা যেন মূলস্রোতের বাইরের একেক জন হতাশার প্রতিমূর্তি। তাহলে এই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করবে কারা?

Monday, 25 April 2011

সুর সাগর হিমাংশু দত্ত, প্রায় বিস্মৃত এক সঙ্গীত প্রতিভা

সুর সাগর হিমাংশু দত্তের নামটি প্রথম শুনি সুমন চট্টোপাধ্যয়ের( আজকের কবির সুমন ) “তোমাকে চাই গানে “। গানটিতে একটি লাইন ছিল “….. ভুলে যাওয়া হিমাংশু দত্তের সুরে / সেই কবেকার অনুরোধের আসরে …….” হিমাংশু দত্তের নামটি তখন মনে কৌতুহল তৈরী করে …মনে গেঁথে ও… যায়। তারপর একদিন হাতে পেলাম সুরসাগর হিমাংশু দত্তের দশটি গানের একটি অ্যালবাম, সুমনেরই গাওয়া । অ্যালবামটির শিরোনাম তারায় তারায়। এক অসাধারন অনুভূতি হলো গান গুলি শুনে। কথা আর সুরের কি অদ্ভূত মেলবন্ধন। মনটা শিথিল আর আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ।
সুর সাগর তার উপাধি। সেটা ১৯৩০। উপাধি প্রাপকের বয়স তখন মাত্র বাইশ। সেই উপাধি মাত্র ছত্রিশ বছরের জীবনে আক্ষরিক অর্থেই সার্থক করে গিয়েছেন হিমাংশু দত্ত (১৯০৮-১৯৪৪)। শুরুটা হয়েছিল কুমিল্লার জেলা স্কুলে। ছোটবেলায় কুমিল্লার এক ধর্মমন্দিরে ভজন গান পরিবেশন করে সকলকে আশ্চর্য ও বিমোহিত করেন হিমাংশু। পারিবারিক কোন জলশায় কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান না গেয়েও চতুর্দিকে তার গানের দীপ্তি ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। বন্ধু সহপাঠি সুবোধ পুরকায়স্থের সঙ্গে চলত গান লেখা, সুর দেওয়া। হিমাংশু সুবোধ পুরকায়স্থের লেখা বেশিরভাগ গানে সুর দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি অজয় ভট্টাচার্য এবং বিনয় মুখোপাধ্যায়ের অনেক গানে সুরারোপ করে বিশিষ্ট সুরকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর গানের সুরে রাগ-সঙ্গীতের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায় এবং করুণ রসের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তার প্রকাশ ও বিকাশ ঘটে মূলত কলকাতায়। বিচিত্রায় মীরার ভজনের স্বরলিপি করেছেন হিমাংশু। রবীন্দ্রনাথের গানেরও স্বরলিপি করেছিলেন তিনি, ‘সকরুণ বেণু বাজায়ে…’। নজরুলের অনেক গানের সুরকার তিনি। তবে গান গুলো আলাদা করা মুশকিল। তার পরে একের পর এক বিখ্যাত আধুনিক গান, * আলোক আঁধার যেথা * তুমি যে আঁধার *চাঁদ কহে চামেলি গো, *বিরহিণী চিরবিরহিণী, *নিশীথে চলে হিমেল বায়, *বরষার মেঘ নামে, *তব স্মরণখানি *আলোছায়া দোলা *আবেশ আমার যায় উড়ে কোন ফাল্গুনে * খুঁজে দেখা পাইনে যাহার * ডাক দিয়ে যায় কেগো আমার বাজিয়ে বাঁশি * তব স্মরণখানি * তুমি তো বঁধু জান * নতুন ফাগুন যবে * বরষার মেঘ ডাকে ঝড় বরিষণে * মম মন্দিরে ..ইত্যাদি। কিন্তু এই সুর সাগরের জীবনতথ্য আজও ধোঁয়াশায় ভরা। হয়তো তার শেকড় কুমিল্লায় বলে। এ বাংলার মানুষ তাকে মূল্যায়ন করেনি, চেনেই না অনেকে। আর ও বাংলার মানুষ কুমিল্লায় এসে তার শেকড় সন্ধান করবে এত গরজ কোথায়? তাঁর বহু গান এখনও সুলভ নয়। বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে ‘সুরসাগর হিমাংশু দত্তের গান’ (সারেগামা) আর সুমন চট্টোপাধ্যায়ের গলায় তাঁর দশটি গানের অ্যালবাম “তারায় তারায় ”ছাড়া বাকি হিমাংশু দত্ত এই শতবর্ষেও দুর্লভ। সুমনের সেই তারায় তারায় অ্যালবামটিও আজকাল সহজে চোখে পড়েনা। তার সব অ্যালবামই পাওয়া যায় কিন্তু ওটা পাওয়া যায়না। আমার বিবেচনায় সুমনের গায়ক জীবনের সেরা কাজ ছিল সেটি। এখানে একটা ব্যক্তিগত গল্প বলি। প্রিয় শিক্ষক শল্যবিদ (সঙ্গীত বোদ্ধা ও) এবিএম খুরশীদ আলমকে একবার অ্যালবামটি উপহার দেব বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম। স্যার তো মহাখুশী।আমি ও উত্তেজিত। কারণ এই প্রথম তাঁকে একটা জিনিস দিতে যাচ্ছি যা তিনি আগে শোনেনি। কিন্তু এই অ্যালবামের আর কোন কপি তিন মাস আতি পাতি করে খুঁজেও পেলাম না। শেষ মেষ আমার হাতে থাকা সেই কপিটাই তাঁকে দিলাম।তখন অডি ও টেপের যুগ্ । কপি আর করা হলোনা। বছর খানেক আগে আজিজ মারকেট থেকে একটা পাইরেট সিডি পেলাম।
কুমিল্লায় সুর সাগর হিমাংশু দত্তের এক ভাই থাকতেন, পরিমল দত্ত। তিনি যে হিমাংশু দত্তের ভাই তা সেখানকার অনেক সংস্কৃতি বোদ্ধারাই জানতেন না। তবে তার ছিল নিজস্ব আরেকটি পরিচয়। তিনি ছিলেন স্ব মহিমায় উজ্জ্বল স্বদেশী আন্দোলনের এক প্রবাদ পুরুষ। ছিলেন রবীন্দ্র সঙ্গীতের একনিষ্ঠ সাধক। কুমিল্লার বিখ্যাত অভয় আশ্রমের সাথে ছিলেন আমৃত্যু। আজ থাক ।পরিমল দত্তের কথা না হয় আরেকদিন বলব।

Monday, 14 February 2011

ভালোবাসা দিবস ও রিকশাভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা

দিনের কাজগুলোকে যথাসম্ভব সংকুচিত করে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ দুপুরের পরে বউবাচ্চাকে নিয়ে একটু বেরুতেই হবে। যাদুঘরের সামনে থেকে রিকশা নিলাম।
-এই রিকশা যাবে?
-কই যাইবেন ?
-এইতো বইমেলা, টি এস সির সামনে নামাইলেই হবে।
-১৫ টাকা লাগবো স্যার।
-১৫ টাকা? প্রতিদিন যাই ১০ টাকায় আজকে ১৫ টাকা কেন?
-আইজকা স্যার সবাই ৫ টাকা বাড়াইয়া দিতাছে।
-কেন , বাড়িয়ে দিচ্ছে কেন ?
-দিতাছে তো,আইজকা একটা ভালা দিন স্যার,সবাই ৫ টাকা বাড়াইয়া দিতাছে।
রিকশায় উঠে পড়লাম, রিকশা এগিয়ে চলছে।
আমি রিকশাঅলাকে আবারো প্রশ্ন করলাম- চাচা মিয়া ঠিক কইরা কন আজকে কি দিন? কইতে পারলে পাঁচ টাকা না দশটাকা বাড়া্ইয়া দিমু। কন কন।
কি জানি কি একটা দিন…বলে সে একটা লাজুক হাসি দেয় ।
কইতে না পারলে কিন্তু ভাড়া দশটাকাই…..কোন কনসিডার নাই।কইয়া ফালান।
লোকটা অসহায় ভঙ্গিতে দুবার ঘুরে তাকায় আমার স্ত্রীর দিকে ..আবারো লজ্জার হাসি দেয়।
- “কেমনে কই স্যার, মা বইন আছে না এইখানে”।

Monday, 31 January 2011

মানুষের বিপরীতে মানুষের সরকার...

ক্ষমতায় গেলেই কি মগজটাকে ডিপ ফ্রিজে জমা রেখে যেতে হয়? তা না হলে খুব সাধারন অশিক্ষিত মানুষ ও যে সরল সত্যটা বোঝে ক্ষমতাবানরা কেন তা বোঝেন না? নাকি ক্ষমতাবানদের মগজ মোহের হলুদ আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। সরকার যে আড়িয়াল বিলে পতনের রাস্তা তৈরী করছে তা একজন নাদান ও বোঝে,খালি সরকার বোঝেনা।
এ দেশে এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কানসাট,ফুলবাড়ী,রূপগঞ্জের পর এবার আড়িয়াল বিল। সেই একই নিয়মে সরকার নিজেকে দাঁড় করিয়েছে জনগনের মুখোমুখি। এবার দশ লক্ষ্ মানুষের বিপরীতে সেই মানুষের সরকার।সরকারের কি দরকার? নাম, বিমানবন্দর, মানুষ, নাকি মানুষের রক্ত?
আড়িয়াল বিল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে লেখালেখি হচ্ছে। নানান তথ্যউপাত্তসহ চমতকার সব লেখা লিখেছেন আমদের ব্লগাররা। পত্রিকার কলাম লিখিয়েরাও চুপ করে নেই। শুধু সরকার ঘুমিয়েছিলো কড়া ডোজের আফিম খেয়ে।এ আমাদের দূর্ভাগ্য ও বটে। নাহলে কেন প্রতিবারই আমাদের এরকম দেখতে হবে? আমাদের সরকার আমাদেরই বুকে কেন চালাবে তার ক্ষমতার তপ্ত সিসা !
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মান করার, যার নাম হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। কিন্তু এটা কি আদৌ জনগনের দাবি ছিল? আরো একটি বিমান বন্দরের কি খুব প্রয়োজন ছিলো?
ক্ষমতায় আসার পর ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রথমে এ বিমান বন্দরের জন্য প্রাথমিকভাবে স্থান নির্ধারন করা হয়। সেখানেও প্রতিবাদের মুখে পড়েছিল সরকার। পরে সেখান থেকে সরে এসে ঢাকার কাছে মুন্সিগঞ্জের আড়িযাল বিলে বিমান বন্দর নির্মান করার জন্য স্থান নির্ধারন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এ বিমান বন্দরের জন্য আড়িয়াল বিলে পচিঁশ হাজার একর জমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু করবে সরকার ।
এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে এলাকার মানুষ । তাদের দাবী আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর হলে তাদের ফসলী জমি নষ্ট হবে ।ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলার অধিবাসীরা ওই বিলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার লোক বেকার হয়ে পড়বে। দেশে খাদ্যশস্যের ঘাটতি দেখা দিবে।
তবে সরকার বলছে আড়িয়াল বিল এক ফসলী জমি ।
যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে। এখানেই মজাটা দেখেন-ফুলবাড়ীর মানুষ গুলোকেও এরকম গল্প শুনিয়েছিল আমাদের সেইসময়ের সরকার বাহাদুর আর তাদের বশংবদেরা। তখন তাদের বলা হয়েছিল উন্মুক্ত কয়লা খনি করতে গিয়ে যারা ভূমি হারাবেন তাদের জন্য নির্মাণ করা হবে আধুনিক ফ্লাট বাড়ি।কিন্তু মানুষগুলো যেন কবিতার সেই বাবুই পাখির মত। “নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা”।সেদিন দা-খুন্তি নিয়ে বেরিয়েছিল নিজেদের ঠিকানা রক্ষার স্বার্থে। এবারও তাই ঘটলো।
আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মানের সরকারী পরিকল্পনার প্রতিবাদে সোমবার সকালে শতশত মানুষ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। আড়িয়াল বিলে নতুন বিমান বন্দর নির্মানের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পুলিশ নিহত এবং ১২জন গুরুতর আহত হয়েছে । এই মৃত্যুর দায় কার? এই পুলিশগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের সরকারেরা।যারা মারা যায় তাদের পরিবারের সদস্যরা কাদের অভিশাপ দেয়? বিক্ষুব্ধ মানুষদের নাকি সরকার কে?তাদের অভিশাপের আগুনে কে পোড়ে? মানুষ নাকি সরকার?ইতিহাস কি বলে?
ইতিহাসের এ বড় নির্মম শিক্ষা-ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আমরা কেবল পুনরাবৃত্তি দেখি। একি ঘটনা। কেবল পাত্র পাত্রী চেঞ্জ। সেবারে মাহমুদুর রহমান এবারে শফিক আলম মেহেদি(বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব) কিংবা আবদুল মান্নান(গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী)।আসুন তাদের বানী গুলো শুনি।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব শফিক আলম মেহেদি কয়েকদিন আগে বিবিসিকে বলেন -বিমান বন্দরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মধ্যে সাধারন মানুষের সম্পৃক্ততা নেই ।
মি: মেহেদি আরো বলেন , “আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর না করে অন্য যে কোন জায়গায় বিমান বন্দর করলে এর চেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতো।বিমান বন্দর হলে স্থানীয় মানুষের কর্মস্থান হবে৻ ”
মন্ত্রী মহোদয় তো বিমান বন্দরের জন্য জান দিয়ে দেবেন । বিক্ষোভকারীরা তার ভাষায় "ওরা বিএনপি জামাত চক্র! যদ্ধাপরাধীদের বিচার বাঞ্চাল করতে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সাধারণ মানুষে্র সাথে এর সম্পৃক্ততা নাই।" কি নির্লজ্জ আর হাস্যকর এই সব মানুষ আমাদের মন্ত্রী! এইসব অন্ধ মানুষদের নিয়ে আমাদের সরকার! সরকার বদল হবে,পাত্রপাত্রী বদল হবে শুধু সংলাপ গুলো একই রকম রয়ে যাবে।
নামকরন আওয়ামীলীগের একটি ম্যনিয়া। রোগটি পুরোন। ধারনা করি দুরারোগ্যও। মাঝখান থেকে বঙ্গবন্ধু মারা যান বহুবার। ডালিম,ফারুক,রশীদ’রা যেরকম নির্মম ভাবে মেরেছিলেন তার চেয়ে বহুগুণ নিষ্ঠূরতায় মা্রা পড়েন ‘পড়নে মুজিবকোট’দের হাতে। অসহায় বঙ্গবন্ধু। মগজহীণ লোভী মানুষগুলো তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আড়িয়াল বিলের মানুষদের সামনে। এই ‘মুজিবকোট’দের কাছে বঙ্গবন্ধু আসলে কিছুনা। (কিছু যে না তা আমরা দেখেছি আগস্ট’৭৫ এর পরবর্তী সময়টিতে তাদের অদ্ভূত নিরবতায়)।আসল কথা হল একটি নতুন বিমানবন্দর সমান কয়েক শ কোটি টাকা।পুরনো গুলো সংস্কারে তাই তাদের আগ্রহ দেখিনা।এখানে একটি পাটিগনিতের ঐকিক নিয়মের অংক আছে।আমরা সাধারণ মানুষ এই অংকে কাঁচা। তাই আমরা আম পাব্লিক। ওনারা মিনিস্টার।সরকারের লোক।

সরকার আসলে কি? সরকার কি কোন নির্জীব সত্তা? শুধুই কি একটা কনসেপ্ট? নাকি এর প্রাণ আছে? মানুষের মত এর বিবেক আছে কি? বিলের কান্না শোনার মত মন কি তার আছে? বিলের বুকে যে ডাহুকের গান নিঃসংগ সন্ধ্যার বুকে বিরহের মত বাজে-তার গান শোনার মত কান কি তার আছে? কিংবা হলুদ ফসলের গায়ে যে বাতাস শিস কেটে যায় সেই শিসটূকু শোনার মত কান কি আছে তার? সরকার কি শুনতে পাবে নিহত হওয়া পুলিশ সদস্যটির স্বজনদের কান্না। মনে প্রশ্ন জাগে। উত্তর মেলেনা ।দুঃখ লাগে-আমাদের সরকার গুলো এমন অসাড় হয় কেন? এমন বধির কেন হয়?
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ২:২৩
তথ্য ঋণঃ বিবিসি,প্রথম আলো।

Tuesday, 18 January 2011

বানিজ্য মেলায় বঙ্গবন্ধু

বানিজ্য মেলায় বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি এবছর বেশ চোখে পড়ার মত।।চীনা একটি স্টল এ দেখলাম বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ছবি।জিনিশ টার দামটাও বেশ সরেস। চীনারা যে ব্যবসা ভাল বোঝে তা ইদানিং কালে সারা দুনিয়াই বেশ টের পেয়েছে ।দেশি একটা হ্যান্ডিক্রাফট এর দোকানে ও দেখলাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানান রকম পসরা সাজানো হয়েছে। কাঠ খোদাই,এপিলিক,এ্যম্বুশ নানান রকম। ৫০ থেকে ১৫০০০ নানান দামে বিক্রি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু।দোকানি কে জিজ্ঞেস করলাম কেমন বিকোচ্ছেন বঙ্গবন্ধু? দোকানির উত্তর 'সিজন তো স্যার'।কানে লাগে।কিছু করার নাই।বংগ দেশ বলে কথা।বংগ দেশে সব ই সম্ভব।
সব ই যে সম্ভব সেটা আরো ভালো করে টের পেলাম বঙ্গবন্ধুর নামে আস্ত একটা স্টল দেখে। বানিজ্য মেলায় বঙ্গবন্ধুর নামে আসলেই একটি স্টল আছে । নাম 'বঙ্গবন্ধুর সাথে কিছুক্ষণ'। নাম শুনে আঁতকে উঠলাম।'বঙ্গবন্ধুর সাথে কিছুক্ষণ'মানেটা কি? ভেতরে কি বঙ্গবন্ধুর আত্মা বসে আছে নাকি? এক দর্শনার্থীর মাধ্যমে জানতে পারি এটা আসলে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের একটি 'বানিজ্যমেলা সংস্করণ'। বানিজ্য ই বটে! ভেতরে আর ঢুকতে ইচ্ছে হয়নি। কে জানে ভেতরে গিয়ে আরো কি দেখব? আমার মনের চোখে ভেসে উঠছিল একটি ছবি। সিঁড়িতে নিথর পরে আছেন বঙ্গবন্ধু । খানিক দূরে অসহায় পড়ে আছে তার চশমা। হায় বাঙ্গালী!হায় তার জাতির পিতা।

যাই হোক, আমি মাথা নিচু করে বেরিয়ে আসি। মেলা ছেড়ে বেরিয়ে আসার ঠিক আগ মূহুর্তে চোখে পড়ে 'মুক্তিযোদ্ধা ফাস্টফুড'। আমি আর কোনদিকে তাকাই না । মাথা নিচু করে বেরিয়ে আসি। কে জ়ানে আবার কি না কি দেখে ফেলি।