Tuesday, 16 November 2010

পরপারে জনৈক সানাউল্লাহর অহেতুক প্রশ্নবাণ

নাটোরের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সাহেব পরপারের বাসিন্দা হয়েছেন বেশী দিন হয় নি। সম্প্রতি তার মাথায় অহেতুক এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
মৃত্যু পরবর্তী নানান রকম ফরমালিটিজ, কবরের আজাব,হিসাব নিকাশ,সওয়াল-জবাব ইত্যাদি সব ঝামেলার পর দুনিয়াবী বিষয় নিয়ে মন খারাপ করার মত অবস্থা থাকেনা। থাকার কথা ও না। তবু একটা বিষয় নিয়ে তার মন খুব বেশী রকম খারাপ।
ওপার থেকে সানাউল্লাহ দেখছেন তার ম্যাডাম বাড়ীছাড়া হয়েছেন। ঈদের দুদিন আগে হরতাল ডেকেছেন।কিন্তু সানাউল্লাহর মনে অশান্তি। সানাউল্লাহর মনে অহেতুক একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।তিনি পরপারবা্সী যাকেই পাচ্ছেন জিজ্ঞেস করছেন-
“ আচ্ছা আমার মৃত্যুর পর ম্যাডাম কোন হরতাল ডাকলেন না কেন?"
ঠিক এ রকম সময়ে ঈশ্বর তার অযাচিত হস্তক্ষেপটি করেন।
ফলে সানাউল্লাহ সাহেবের প্রশ্নের উত্তর টি আর জানা হয় না।

Monday, 15 November 2010

গনতন্ত্রের ঠান্ডা বাতাস

কি সব জঘন্য কান্ডকীর্তি ই না হল গত দুটো দিন ধরে ? নোংরা ঘাটার অভ্যাস রাজনীতিবিদ দের পুরোন ।তাই বলে চ্যানেল অলাদের ও কি অশ্লীল দৃশ্য গুলো এভাবে দেখাতে হবে টিভির পরদায় । এম্নি তে আমি টিভি দেখি কম ।সন্ধ্যা বেলা চেম্বারের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগ মূহুর্তে চোখ আটকে গেল টিভি পরদায়। খালেদা জিয়ার বেড রুমের দৃশ্যাবলি।নোংরামিটই যখন পুঁজি তো টিভি চ্যানেল আর পিছিয়ে থাকবে কেন? ব্যবসা তো ।একজন ভদ্র মহিলার শয়ন কক্ষ ও স্নানাগার ও দেখিয়ে দিল। এই ফাঁকে আমরাও দেখে নিলাম কেমন পালঙ্কে শুতেন তিনি ।এখানেই শেষ নয়, আরও আছে । বেড রুমের বেড সাইড ড্রয়ার থেকে বেরুল .............উফ থাক বলতে চাইনা। এই নোংরামির শেষ কোথায়? শেষ নাই এযে কেবল শুরু।বাংগালীর বড় শখ ছিল গনতন্ত্রের ঠান্ডা বাতাস খাবে ।কি ভালই না বেসেছিল দুই নেত্রী কে! এখন খাচ্ছে কি?মজা নদীর পয়ঃঘ্রাণ সমৃদ্ধ বাতাস।কপাল! জানিনা এই নাটকের নেক্সট সিকুয়েলে কি আছে।

Tuesday, 2 November 2010

অ্যাডামের সেতু

মাঝে মাঝে মনে হয় এইতো জীবন, কি সুন্দর বেঁচে থাকা !
বিষয়ের অন্তর্চক্ষু দিয়ে দেখি অর্থ, কীর্তি, যশ।
মন্দ নয় নেহায়েত; এই প্রাপ্তি ।
তবু কেন এক ‘বিপন্ন বিস্ময়
অন্তর্গত রক্তের ভেতর খেলা করে’?
এযেন লাশ কাটা ঘরের সেই মানুষটি
‘মরিবার হলো তার সাধ’।
তবে কি এ জীবন নয়
অন্যকোন জীবন চেয়েছিলাম?
জীবনের অর্থ খুঁজে খুঁজে বেঁচে থাকি
এক একটা দিন-মাস-বছর।
এ ভাবেই একদিন...
দেখা হয়ে যাবে তার সাথে।
বলবে কি “তুহুঁ মম শ্যাম সমান”?
মম শ্যামের সেই সুবর্ণদ্বীপের পথে এ যেন সমূদ্র বন্ধন,
অ্যাডামের সেতু।

Thursday, 28 October 2010

মমতাময়ী

এটা আমার লেখা প্রথম ব্লগ। কি নিয়ে লিখবো ? বিষয়বস্তু কি হবে ? জীবনের প্রথম ব্লগ। এই লেখার ভেতর দিয়েই আমি শুরু করতে যাচ্ছি আমার জীবনের ব্লগ পর্ব। মানবজীবন নানা রকম পর্বে সাজানো। সেই জীবনের একেক পর্ব একেক রকম ঘোরের ভেতর দিয়ে কেটে যায়। এই যেমন আমার এখন চলছে ‘পূত্রঘোর’।
আমার দেবশিশুর মতো সাড়ে তিন বছরের পুত্রধনটি এই মূহুর্তে আমার জীবনের সমস্ত আনন্দ-বেদনার কেন্দ্রবিন্দু। তাকে ছেড়ে থাকাটা এই মূহুর্তে আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের কাজ। অবশ্য এই কাজটি আমাকে প্রতি সপ্তাহেই দুই একদিনের জন্য করতে হয়। এ সপ্তাহে আমি আমার অতীত রেকর্ড ভেঙ্গেছি। দারা-পুত্র-পরিবার ছেড়ে আমি সুদীর্ঘ চার দিন চার রাত ঢাকার বাইরে থেকেছি। এটাই এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ।

আখাউড়ায় থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রী আমাকে ফোনে জানিয়েছিল “তোমার ছেলে স্কুলে যেতে চায়না ,স্কুলের কথা শুনলেই ক্ষেপে যাচ্ছে।” অল্প কিছুদিন হলো আমার ছেলেটি স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। এই ঢাকা শহরে এটাই এখন রেওয়াজ। আড়া‌ই-তিন বছর বয়স থেকেই স্কুলে যাওয়া শুরু। সেই তুলনায আমার ছেলে বরং বছর-ছ’মাস পিছিয়ে ।কি দিন ছিল আমাদের ! ৫/৬ বছরের আগে স্কুলে যাওয়ার নাম নেই। আর এখন! তবে এই সব শহুরে স্কুলগুলোর একটা দিক ভাল। আমাদের ছোটবেলার স্কুল গুলোর মত বেত নিয়ে পড়ায় না। শুরুর দিকটায় শুধু খেলাধূলা,রাইম, মি্উজিক। ফাকে ফাকে চলে অক্ষর জ্ঞান। মন্দ না। ক্লাশ ওয়ানের আগ পর্যন্ত; একে এরা বলে প্রি-স্কূল। প্রি-স্কুল জিনিসটা আমাদের মত কর্মজীবি বাবা মায়ের জন্য ভালোই। ছেলেটা বাসায় একা একা বোর হয়। এখানে এসে তবু কিছুটা সময় কাটে। যদিও বাসায় ও দাদা-দাদীর সাথে থাকে তবুও সমবয়সীদের সাথে কিছু সময় কাটানোর মজা অন্য রকম। ছেলেটার অন্তত একটা সার্কল তৈরী হোক। কিছু বন্ধু ওরও হোক। এই সব শহুরে স্কুল নিয়ে আমার অনেক শুচিবাই আছে। আমার কাছে এগুলোর অধিকাংশই একেকটা ব্যবসাকেন্দ্র । ‘ক্লায়েন্টদের’ আকৃষ্ট করবার জন্য এরা অনেক কিছুই করে। কোন কোন স্কুলের প্রিন্সিপাল (আমাদের সময় এই পদটিকে বলা হতো হেডমাস্টার। শব্দটির সাথে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি জড়িত।) গার্জেনদের আকৃষ্ট করবার জন্য বলেন “আমার স্কুলে আমি কখনোই বাংলা বলতে দেই না । আই নেভার এ্যলাউ… ।” তার স্কুল কতটা ভাল স্কুল সেটা বোঝানোর জন্যই হয়তো বা এই উক্তি। এই সব স্কুলের প্রতি আমার আসলে ভক্তি আসেনা। তবু ছেলেকে তো স্কুলে দিতে হবে। অনেক খুঁজে পেতে, এ জনে ও জনে ধরে একটা স্কুলের সন্ধান পাই। বাংলা ইংলিশ সমান জোর দিয়ে পড়ান হয় । স্কুলের কর্ণধারের পরিচয় জেনে আমি আশ্বস্ত হই। তিনি বাংলাদেশের খুবই মননশীল একটি পরিবারের সদস্য ।এদের একভাই শহীদ বুদ্ধিজীবি । ভাষা আন্দোলনে ছিলেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়;শিক্ষক ছিলেন। এঁদের বড় ভাই টি একজন জাতীয় অধ্যাপক, এক নামে সবাই চেনেন। একবোন এদেশের নাট্যজগতের অত্যন্ত ‍সুপরিচিত একজন অভিনেত্রী । বাকীরা ও সুপ্রতিষ্ঠিত। এ রকম পরিবারের একজন হবেন আমার ছেলের প্রথম স্কুলের প্রিন্সিপাল - এতো সৌভাগ্য! ভদ্রমহিলার সাথে পরিচিত হয়ে আমি ধন্য। প্রথম দিন, গার্জেনদের ইমপ্রেস করবার জন্য ম্যাডামের কতরকমের চেষ্টা! ঠিকই আছে, স্কুলটা চালাতে হবে তো।

প্রথম দিনটিতে আমার ছেলে; নভঃ কে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম আমি, আমার স্ত্রী আর সাথে আমাদের মমতা খালা- যিনি আসলে নভঃ’র সাবর্ক্ষণিক সঙ্গী । মমতা খালা আমাদের সাথে আছেন আজ প্রায় তিন বছর। এসেছিলেন আমাদের গৃহকর্মের সহকারীনি হিসেবেই। তবে এই মানুষটি তার সততা, আন্তরিকতা আর ব্যক্তিত্ব গুণে হয়ে উঠেছেন আমাদের একজন। ভর্তি সংক্রান্ত নিয়ম কানুন সেরে প্রিন্সিপাল ম্যাডাম কে বললাম “ইনি হলেন আমাদের মমতা খালা । ইনিই নভঃ কে দেখেন । আমরা তো দুজনেই কর্মজীবি… নভঃ’র সাথে খালাই আসবেন,খালাই নিয়ে যাবেন । ওনার নাম মমতা ।” ম্যাডাম আমার কথার ইঙ্গিতটি ধরতে পারলেন না ( হয়তো চাইলেন না) খালাকে ‘বুয়া’, ‘তুমি’ সম্বোধন করলেন। বিষয়টা আমার কাছে অস্বস্তিকর । ‘বুয়া’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ যা-ই হোক ,শব্দটি তার ‌মাধূর্য হারিয়েছে অপব্যবহারের দোষে। এরকম এক শব্দে কাউকে বিশেষ শ্রেনীভূক্ত করে ফেলার প্রবণতা আমাদের শিক্ষিত(?) সমাজে প্রকট । ম্যাডাম কে বললাম ,‘খালা আমাদের পরিবারের সদস্যর মতো । আমাদের খুবই আপন মানূষ (কৌশলে বিষয়টা ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা )। “এরকম বুয়া পাওয়া আসলেই কঠিন ” -ম্যাডামের উক্তি। মনটা কি দমে গেল? পাত্তা দিলাম না । সব কিছু মন মত হয় না। নভঃ স্কুলে যাওয়া শুরু করলো । সব বাচ্চার সাথে যায় তাদের মা, নিদেন পক্ষে দাদী-নানী। সেই সব বনেদী ঘরের অভিজাত রমণীদের পাশে আমাদের আটপৌরে খালা- নেহায়েত বেমানান। আমাদের প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বিরক্ত হতে লাগলেন, খালার সাথে তার ব্যবহার দেখলেই ব্যপারটা আঁচ করা যায় । খালার ক্ষেত্রে তিনি তার আগের সম্বোধনটিই বহাল রাখলেন। এবং শুধু খালার সাথে কথা বলার ক্ষেত্রেই তার গলার স্বরটি একটু যেন বেশী চড়া।

সেইদিন কি কারণে জানি না গলাটা বোধ হয় একটু বেশী-ই চড়িয়েছিলেন। নভঃ সেদিন স্কুলের বাকী সময়টা খালার কোলেই কাটিয়েছে। কোন খেলা না, পড়া তো নয়ই। ম্যাডামের সব নির্দেশ অমান্য, সব আদর প্রত্যাখ্যান, ভোলানোর সব আয়োজনই ব্যর্থ। এ যেন তার প্রতিবাদ। বাসায় এসেই কান্না। “আমার দিদি ভাইকে ম্যাডাম বকা দিল কেন? আমার দিদি ভাইকে বকা দিলে আমার খুব কষ্ট লাগে। আমি আর কোনদিন স্কুলে যাব না।” আমি নভঃকে কি উত্তর দেব? সাত পাঁচ বোঝাতে পারতাম। সে চেষ্টাতে যাইনি। আমি বরং চুপ করে থাকলাম । বাক্যরহিত। এই শিশুটি যে আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিল- আমাদের দেশের সবচে প্রগতিশীল পরিবারের সদস্য এই শিক্ষিকাটি কি তা ধরতে পেরেছেন ?(পুনশ্চঃ আমার এই ব্লগটি আমাদের মমতা খালাকে উৎসর্গ করলাম। এই মানুষটি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছেন। আমাদের জীবনে একরকম নিশ্চিন্তি এনে দিয়েছেন। খালা আছেন বলেই না আমার স্ত্রী সকাল বিকাল নিশ্চিন্তে রোগী দেখতে পারেন, আমি ঢাকা-আখাউড়া করতে পারি। দিন শেষে ঘরে বসে দু’লাইন ব্লগ ও লিখতে পারি। শুধু আফসোস খালা এই লেখাটি পড়তে পারবেন না...।

Friday, 22 October 2010

স্বপ্ন

স্বপ্ন দেখাটা বড়ো সহজ, স্বপ্ন দেখানোটাই কঠিন-আলী মাহমেদ