Monday, 16 May 2011

খবরদার হাত দেবেন না। হাত সরান বলছি। হাত উপরে...........

খবরদার হাত দেবেন না। হাত সরান বলছি।হাত উপরে , উপরে। ভাল করে দেখতে দেন , নাইলে চিকিৎসা নাই। প্রায় পঞ্চাশ জন লোকের সামনে ভরা ওয়ার্ডে চলছে পঞ্চশোর্ধ এক হার্নিয়ার রোগী দেখা। ডাক্তার একজন সহকারী অধ্যাপক , সার্জারী বিভাগ । অসহায় রোগীর সম্ভম লুটিয়ে পড়ে মলিন লুঙ্গির সাথে ওয়ার্ডের ততেধিক অসহায় মেঝেতে।

“কাহিনী কি?

-স্ক্রীন পাওয়া যাইতেছে না।“

এটা একটা কাল্পনিক নাটকের চিত্রনাট্য , আসুন এটা আমরা ভুলে যাই।

**********************************************************************************************

আমাদের দেশের মেডিকেলের কারিকুলামটাই একটা বিরাট সমস্যা। আমি চরম হতাশ। এখানে মানবিক চিকিৎসক হয়ে ওঠার রসদ খুবই কম। তাই অনেকের কাছে চিকিৎসা বিজ্ঞান হয়ে ওঠে কেবলিই একটি বৃত্তিমূলক শিক্ষা। সিস্টেমের সমস্যা ও আছে। একধরনের নির্মম মানসিক অত্যাচারের ভেতর দিয়ে একজন চিকিৎসক তৈরী হন। অজান্তেই হয়তো তাদের ভেতরে তৈরী হয় একধরনের স্যডিস্ট মানসিকতা। যার ফলেই হয়তো তারা এই পিতার বয়েসী রোগীকে ধমকে কথা বলেন, হার্নিয়া পরীক্ষার সময় পন্চাশোর্ধ রোগীর লুঙ্গি ধরে টান দেওয়ার প্রেরণা পান।

আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও এখানে কিছু ভূমিকা রাখে বলে অনুমান করি । মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর থেকে ই একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট যেরকম প্রিভিলেজ পেতে শুরু করে তার পরিবার ও আশেপাশের মানুষের কাছে তাতে তার মানসিক বিকাশে ও বাধার সৃষ্টি করে। এক ধরনের সুপার কমপ্লেক্সে ভূগতে থাকে এই সব হবু ডাক্তার রা। ডাক্তার হওয়ার পর আরো। ডাক্তার পরিচয়টি তার সামাজিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করে। তাই হয়তো বিয়ের কার্ডেও নামের আগে ডাঃ লেখে অনেকে, লক্ষ্য করেছি। হার্নিয়ার রোগী একজামিনের আগে পারমিশন নেওয়া, স্ক্রিন চাওয়ার সহবত টা কেবলি পরীক্ষা পাশের একটা বৈতরনী। বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর দরকার কি?

অধিকাংশ ডাক্তার আসে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। শ্রেনী পরিবর্তনের স্বপ্ন আর বাবা মায়ের ব্যর্থতা পুষিয়ে নেওয়ার দায় কারো কারো ডাক্তার হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। তাই বরং রোগীকে দেওয়া ধমকটা তার শ্রেনীগত অবস্থানকে নিশ্চিত করে।

এদেশে ডাক্তার মানেই যেন ক্লিনিশিয়ান। মানে মেডিসিন, সার্জারী এইসব। জনস্বাস্থ্য, প্রিভেনটিভ মেডিসিন, মেডিকেল এডুকেশন বিশেষজ্ঞরা এদেশের চিকিৎসক সমাজের দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক। এরা যেন মূলস্রোতের বাইরের একেক জন হতাশার প্রতিমূর্তি। তাহলে এই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করবে কারা?

No comments: